দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিন সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান মাদবরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় এক সাংবাদিকের মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন,দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি এবং দৈনিক এদিনের জেলা প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। এর জেরে মঙ্গলবার সকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে প্রথমে বিধান মজুমদার অনিকে কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সংবাদ সংগ্রহের সময় জাহিদ হাসান রনি ও বরকত উল্লাহর ওপরও হামলা করা হয়। একপর্যায়ে জাহিদ হাসান রনির মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে নেওয়া হয় এবং ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
বিধান মজুমদার অনি বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। কয়েকজনের সহযোগিতায় কোনোমতে ঘটনাস্থল থেকে সরে আসি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
জাহিদ হাসান রনি বলেন, ‘জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফ মোল্লাসহ কয়েকজন আমাকে মারধর করেন। পরে আমার পরিচয়পত্র ও মুঠোফোন নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়।’
বরকত উল্লাহ অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দায়িত্ব পালনকালে আরিফুজ্জামান মোল্লা তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ও সাংবাদিক, ওকে ধর’ বলে নির্দেশ দেন। এরপর আমান মাদবরসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান। তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় এবং একপর্যায়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার। তিনি বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই লিস্টে আছে, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে যাবে। তুমি নিজেও তৈরি থাকো। তোমরা লেখবা আর আমরা তো তোমাদের পিটাবো।’
অন্যদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান বলেন, ‘একজন ব্যক্তিকে কয়েকজনকে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখেছি। আমরা জানতাম না তিনি সাংবাদিক। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’
জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। তাদের এভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানানো উচিত নয়। সাংবাদিকদের মধ্যে কেউ হামলার শিকার হয়েছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।